দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মালয়েশিয়ায় বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেখিয়ে দেশে পাঠানোর ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিরুদ্ধে। মৃত প্রবাসীর পরিবারের অভিযোগ, ভিসার মেয়াদ চলমান থাকার বিষয়টি হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখাকে আগেই জানানো হলেও তাঁকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেখিয়ে মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী সদরের হাটখোলা এলাকার মো. জাইদুল ইসলাম গত ২৮ আগস্ট মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের সেরেম্বান শহরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের সেরেম্বান শহরে লিম চং ভেজি মার্ট এসডিএন বিএইচডি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
মৃত প্রবাসীর ভিসার কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর ভিসার মেয়াদ রয়েছে। তবে অভিযোগ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের নথিতে তাঁর ভিসার মেয়াদ ২০২৫ সালেই শেষ হয়েছে দেখানো হয়। এরপর তাঁকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে উল্লেখ করে মরদেহ দেশে পাঠানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর জাইদুলের মরদেহ দেশে পৌঁছায়।
পরিবারের অভিযোগ, মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তাঁদের দাবি, জাইদুলের নিয়োগকর্তা ভিসা না থাকার তথ্য দেখিয়ে ২০২৫ সালে মেয়াদ শেষ হওয়া কাগজপত্র দিয়ে মরদেহ দেশে পাঠানোর ছাড়পত্রের আবেদন করেন। এর আগে জাইদুলের ভিসার মেয়াদ চলমান থাকার বিষয়টি হাইকমিশনের লেবার উইংকে জানানো হলেও কেন তাঁকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেখিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মালয়েশিয়ায় বৈধ কর্মীদের ভিসা নবায়নের সময় বিমা করা বাধ্যতামূলক। কর্মীর মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে পাঠানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানি থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ থাকে। পরিবারের অভিযোগ, নিয়োগকর্তা জাইদুলের বিমা না করায় মরদেহ দেশে পাঠানো ও সংশ্লিষ্ট আইনি জটিলতা এড়াতে ভিসা না থাকার তথ্য দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জাইদুলের ভিসার মেয়াদ এখনো চলমান—এ বিষয়টি হাইকমিশনের লেবার উইংয়ে কর্মরত সাইফুল ইসলামকে মুঠোফোনে আগেই জানানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিসা কীভাবে যাচাই করতে হয়, তা তাঁদের জানা নেই। একই সঙ্গে আগাম অবহিত করার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে লেবার কাউন্সিলর সৈয়দ শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। তবে তিনি ফোন ধরেননি।
পরে হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার মো. সিদ্দিকুর রহমানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও কাউকে অবৈধ হিসেবে দেখিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে লেবার কাউন্সিলর সৈয়দ শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে অস্তিত্বহীন কোম্পানিতে কর্মী নিয়োগের সত্যায়ন, ব্যক্তিগত সহকারীকে দিয়ে কোম্পানির তালিকা তৈরি করে অর্থের বিনিময়ে ফাইল ছাড়, নিয়োগকর্তার মাধ্যমে কর্মী নির্যাতন, সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর কখনো অস্থায়ী নিয়োগ পাওয়া চালককে চাকরি থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, আবার কখনো ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ছাড়া ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয়ের কারণে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ থেকে সুবিধা পান বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে লেবার কাউন্সিলর সৈয়দ শরিফুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমএস/